উপজেলার এইচএসসি ফলাফলের সার্বিক চিত্র খুব একটা সুখকর নয়

উপজেলার এইচএসসি ফলাফলের সার্বিক চিত্র খুব একটা সুখকর নয়

July 19, 2018 147 By মিরসরাই খবর

মঈনুল হোসেইন টিপু::

mAD

খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো…..

মীরসরাইয়ের এইচ এস সি ফলাফলে গত কয়েক বছরে একেবারে নতুন দুটি কলেজ, প্রফেসর কামাল উদ্দীন চৌধুরী কলেজ এবং মহাজনহাট কলেজ খুবই ভালো ফলাফল করছে। এবছর যেখানে চট্টগ্রাম বোর্ডের পাশের হার ৬৫% এর মতো, সেখানে দুটি কলেজের পাশের হার যথাক্রমে ৯২% এবং ৮৯%। জিপিএ -৫ পেয়েছেন যথাক্রমে ৪ জন ও ৩ জন করে।

গত কয়েকবছর ফলাফলের দিক দিয়ে দুটি কলেজের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান এবং এই জিনিসটিকি খুব পজেটিভলি দেখি।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই দুটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মীরসরাইয়ের দুজন বড় রাজনীতিবিদ, যারা গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

দুজন প্রতিষ্ঠাতা রাজনীতিবিদ হলেও দুজনেই স্ব স্ব কলেজের জন্য অন্তপ্রান এবং অবকাঠামোগত দিক এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় দুটি কলেজের উন্নতি ভালো পড়ালেখার বড় উদাহরণ। সম্ভবত মহাজনহাট কলেজের নিজস্ব বাসও আছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি কলেজের জন্য এটা অনেক বড় কিছু।

মজার বিষয় হলো, দুজন প্রতিষ্ঠাতাই রাজনীতিবিদ হলেও দুটি কলেজই রাজনীতিমুক্ত। এবং সবার মতে ঠিক এই কারণেই দুটি কলেজের এত ভালো ফলাফল।

তাহলে অন্য কলেজগুলোতে যদি রাজনীতির জন্য খারাপ ফলাফল হয়, তাহলে এই দায়টা কি রাজনীতিবিদরা এড়াতে পারবেন?

কিন্তু বাকী কলেজগুলোর ফলাফল একেবারেই এভারেজ। শুধু এবারের ফলাফল না গত কয়েকবছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলেও একই চিত্র দেখি।

নিজামপুর কলেজের ছয়জন জিপিএ ফাইভ দেখে খুশি হয়েছি, কিন্তু পাশের হার গত কয়েকবছরে সেই ষাটের কোটায় কিংবা তারও কম। মনে রাখতে হবে এই কলেজটা আমাদের মীরসরাইবাসীর ঐতিহ্য, অহংকার আর আবেগের প্রতীক। কিন্তু গত কয়েকবছরে যখন অনেক ভালো স্টুডেন্ট পেয়েও,একেবারে স্থিতিশীল ক্যাম্পাস আর অনেকগুলো ভালো টিচার থাকা সত্ত্বেও সে একই অবস্থা,কোথাও নিশ্চয় সমস্যা আছে, বৈকি!

বারৈয়ারহাট কলেজের এমন ফলাফলের পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে, যেটা শুধু পাসের পার্সেন্টেজ দিয়ে মাপা যাবেনা। সেটা অন্য আলোচনা।

মীরসরাই কলেজ এবার উন্নতি করেছে কিছুটা। মহিলা কলেজের মেয়েদের অভিনন্দন। গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের পড়ালেখা করটা এখনও অনেক কঠিন, ফার্স্ট ইয়ার থেকে বিয়ের চাপ। যেটা পুরো উপজেলায় ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

পুরো উপজেলায় জিপিএ-৫ মাত্র ১৩ জন, গতবছর ছিলো ৭।

যে উপজেলাকে ফার্স্ট ক্যাটাগরির উপজেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, দেশের সবচেয়ে বড় ইকোনমিক জোন তৈরি হচ্ছে এখানে, সে উপজেলার ফলাফলের সার্বিক চিত্র খুব একটা সুখকর না।

এ ব্যাপারটি নিয়ে বোধহয় একটু চিন্তা করার সময় হয়েছে সবারই।

লেখক:

সমাজকর্মি, সংগঠক।

mAD
mAD