কোটা নিয়ে মতামত দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

কোটা নিয়ে মতামত দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

August 20, 2018 1462 By মিরসরাই খবর

মিরসরাইখবর ডেস্ক::

mAD

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার মতামত দিয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সোমবার (২০ আগস্ট) বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এসে ওই মতামত নিয়ে যান। সরকারের কাছ থেকে জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মতামত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বিকেল পৌনে চারটার দিকে মাহবুবে আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আদালতের রায় নিয়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার বিষয়ে মতামত চূড়ান্ত করার পর বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসে মতামত–সংবলিত প্রতিবেদন নিয়ে যান। আমি রায় ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তের আলোকে ওই বিষয়ে মতামত দিয়েছি। এ বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।’ তবে মতামতে কী বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলতে রাজি হননি রাষ্ট্রের প্রধান এই আইন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘বেশ বড় ৪/৫ পাতার মতামত পাঠিয়ে দিয়েছি। জনপ্রশাসনের লোক এসে নিয়ে গেছে। কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তাই কোটা নিয়ে মিডিয়ায় কোনো কথা বলবো না।’

গত সপ্তাহে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়ে আদালতের রায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দেয় কোটা সংস্কার ও পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরবর্তী সময়ে আরো ৯০ কার্যদিবস সময় পায় এ কমিটি। গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, সরকারি চাকরিতে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে কোটা প্রথা যতটা সম্ভব তুলে দেওয়ার সুপারিশ করছে এ সংক্রান্ত কমিটি। তবে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যাপারে আদালতের রায় থাকায় এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের মতামত চাইবে সরকার।

২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সুবিধা সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে নিষ্পত্তি করে দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ (কোটা) অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে উল্লেখ করে রায়ে আরও বলা হয়, কোনো ক্ষেত্রে কোটা পুরণ যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পদ খালি রাখতে হবে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ বাদ দিয়ে আপিল খারিজ করে দেন। আপিলের রায়েও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়টি বহাল রাখা হয়। তবে কোটা পূরণ সম্ভব না হলে পদ খালি রাখার যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছিল তা বাদ দিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

mAD