ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ডের মুক্তাছড়া ঝর্ণা

ঘুরে আসুন সীতাকুণ্ডের মুক্তাছড়া ঝর্ণা

August 14, 2018 1406 By মিরসরাই খবর

সীতাকুণ্ড উপজেলার অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানের একটি বাঁশবাড়িয়ার মুক্তাছড়া ঝর্ণা। ক’জনই বা জানি এই ঝর্ণার নাম! বাঁশবাড়িয়া পাহাড়ের কোলে অপরূপ এই ঝর্ণার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।যারা ঘুরে বেড়ানোর মজা উপভোগ করতে চান, তারা নিঃসন্দেহে মুক্তাছড়া ঝর্ণার কাছে গেলে অনেক মজা পাবেন। গ্রাম্য পথ ধরে হেঁটে চলা, প্রায় পুরো পথ ঝিরিপথের পানিতে আর পাথুরে রাস্তায় হাঁটা এবং পাহাড়ের সংকীর্ণ পথ বেয়ে উপরে ওঠা সবই আছে এই ঝর্ণায়।
গ্রামের রাস্তা শেষে যখন সবে পাথুরে ছড়ায় নামবেন তখন যেতে যেতে চোখে পড়বে স্থানীয়দের জুম চাষের পাহাড়ী জমি। তাতে দেখা মিলবে বাতাবিলেবু, কাকরোল, ধুন্দল সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।ছড়াপথে দিয়ে মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরই শুরু হবে ঝিরিপথের রাস্তা। এখানে ছোট ছোট পাথর দেখেই খুশি হওয়ার দরকার নেই। সামনে অনেক বড় চমক অপেক্ষা করছে। তবে হাঁটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অনেক পাথরই ধারালো। সাথে থাকা লাঠি দিয়ে দেখে নিবেন পানির নিচে পাথর নাকি গভীর।ট্রেইল ধরে এগিয়ে যেতে যেতে পাহাড়ের গহীন সৌন্দর্য চোখে পড়বে। কিছুটা ছায়াঢাকা পথগুলোর দুই পাশে পাহাড় আর গাছ। এ যেন পাহাড় আর গাছের সুড়ঙ্গ। আকাশ অনেক দূরেই মনে হবে। দুর্ভেদ্য গাছ-পাহাড়ের দেয়ালও তার বন্য সৌন্দর্যে জন্য ভালো লাগবে। সাথে বন্য পাখপাখালির কলকাকলী মুখরিত করছে চারদিক।
ঝিরিপথ দিয়ে প্রায় ৩০মিনিট হাটার পর পাবেন প্রথম ঝর্ণা মুক্তাছড়া ঝর্ণা। কি অদ্ভুত নাম! অদ্ভুত তার সৌন্দর্য (যদিও স্থানীয়দের কাছে এটা ঝরঝরি ঝর্ণা নামে পরিচিত)। মনে হবে পাহাড়ের দেয়াল বেয়ে ঝর্ণার পানি নেমে আসছে। তবে সাবধান। গিয়েই পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেননা। কারণ ঝর্ণার সামনে বড় বড় পাথরের চাঙড় আছে। যা পানির জন্য চোখে পড়ে না। পাথরের পাড় থেকে সাবধানে পা নামিয়ে পানিতে নামুন। মাঝের জায়গাটিতে পা রাখার জায়গা নেই। সেখানে গভীরতা অনেক। যারা সাঁতার জানেন না, নিজে নিজে ঝরণার দেয়ালের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সঙ্গী থাকলে তার সহায়তা নিন।আনন্দে বাড়তি মাত্রা দেবে মুক্তাছড়া ঝর্নার এক কোনে থাকা প্রাকৃতিক স্লাইড। মনে হবে কেউ যেন পাথর কেটে স্লাইড তৈরি করেছে। সাবধানে পাথরের গা বেয়ে কিছুটা উপরে উঠে দুই পাশ থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে স্লাইডে শরীর ছেড়ে দিন। পাহাড়ি ঝর্ণার স্লাইডের অনুকরণে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেযেসব স্লাইড তৈরি আছে তার চেয়ে কম আনন্দ পাবেন না এখানে।মুক্তাছড়া ঝর্ণার দেখা আর ছবি তোলা শেষ হলে এবার পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পারেন। এখনো যে উপরে আরো ২ টা ঝর্ণা বাকি! সব আনন্দ আর সময় এখানে শেষ করে ফেললে যে অপূর্ণতা থেকে যাবে। তবে যারা ঝর্ণায় গোসল করে গা ভিজিয়ে ফেলবেন তাদের আগে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নেয়া উচিত। কারণ এখানে থেকেই শুরু পাহাড়ের গা বেয়ে ওঠা।গা ভেজা থাকলে মুক্তাছড়ার ডান দিক দিয়ে উপরে উঠার রাস্তা দিয়ে সাবধানে চলা উচিত। উপরে উঠেই আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে কেউ। কারণ এর ঠিক উপরেই আরো একটি ঝরণা।মুক্তাছড়া ঝর্নার পাশ দিয়ে শুরু পাহাড়েরমূল অভিযান। সরু মাটির রাস্তা ভিজে পথকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। কারণ আপনার মতই ভেজা শরীর নিয়ে ওঠে স্থানীয়রা তাদের জুমে যায়। লাঠি দিয়ে সামাল দিতে না পারলেদুই হাত ব্যবহার করুন। হাত দিয়ে মাটি বা গাছ খামছে উপরে উঠুন।

mAD

ভাগ্য ভালো থাকলে সরু এই পথের উপরের দিকে ওঠার জন্য বেঁধে রাখা লতার দঁড়িও পেয়ে যেতে পারেন। খাড়া এই পথে দুর্বলচিত্তের লোকেরা ভয় পেতে পারেন। তাই সম্ভব না হলে নিচে থেকে যান। কারণ খাড়া পথটি বেয়ে ওঠার সময় হাপিঁয়ে যেতে পারেন। তবে খাজকাটা করা আছে নির্বিঘ্ন যেতে পারেন প্রথম ঝিরিপথে। ৫মিনিটের পথটি শেষে পাহাড়ের সমতল রাস্তায় উঠে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে পারেন।বাড়ির কাছে এত সুন্দর একটা জায়গা আছে সেটা কখনো জানতামই না! এই গিরিপথে যাওয়ারপথে খুব সুন্দর সুন্দর কিছু ক্যাসকেড পড়ে আর আশেপাশের সবুজ পাহাড়গুলোর চোখ জুড়িয়ে যায়! এখানে যাওয়ার একমাত্র পথ সরুছড়া এবং পাথুরে! ভরা বর্ষায় গেলে ছড়ায় প্রচুর পানি দেখতে পাওয়া যায়!

যেভাবে যাবেন : দেশের যে কোন জায়গা থেকে সীতাকুণ্ড এসে বাঁশবাড়িয়া আসতে হবে। বাঁশবাড়িয়া বাজার থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা ধরে কিছুক্ষণ হাটলে রেললাইন পড়বে, রেললাইন থেকে একটু সামনে এগিয়ে বামপাশ দিয়ে গেলেই একটা ছড়া, সেই ছড়া ধরে ৩০ মিনিট ট্র্যাকিং করলেই পেয়ে যাবেন গিরিপথ, তবে ছড়ায় নেমে ট্র্যাকিং করলে ভালো হয়! পর্যটকদের কাছে তেমন জনপ্রিয় নয় বলে আশেপাশে ভালো দোকান নাই। সীতাকুণ্ড ফিরে ভালো মানের কয়েকটা হোটেল আছে সেখানে খাবার খেতে পারেন। ঝর্ণায় ভিজলে সাথে বাড়তি কাপড় ও তোয়ালে রাখা উচিত।মুক্তাছাড়া ঝর্না ঘুরে এসেছে লিখেছেন-নূর খান।

mAD