প্রতারণাই ওদের পেশা !

প্রতারণাই ওদের পেশা !

May 22, 2021 27 By মিরসরাই খবর

এনায়েত হোসেন মিঠু :::
বড় ক্যামেরা, কাঁদে ব্যাগ, গলায় আইডি কার্ড ওরা মস্ত বড় সাংবাদিক! কবির শাহ দুলাল, অলিউর রহমান, শহীদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাব শহীদ ও জসিম উদ্দিন নামে কথিত এসব সাংবাদিকের প্রতারণায় অতিষ্ঠ মানুষ। তাদের অবৈধ কর্মকান্ডে ত্যাক্ত বিরক্ত স্থানীয় থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় প্রকৃত সাংবাদিকরা।

mAD

জানা গেছে, ফেসবুক, ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল বা আইপি টিভিতে সংবাদ প্রকাশ করে বেশ কজন সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায় করে তারা। এছাড়া এসব কথিত সাংবাদিকদের মধ্যে একজন সম্প্রতি মিরসরাই উপজেলার মায়ানী এলাকার একটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ফেসবুক লাইভ করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়িয়ে দেয়। যা পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে সুরাহা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পরিদর্শক পদের একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিজের নাম ও কর্মস্থলের অবস্থান প্রকাশ না করা শর্তে জানান, কবির শাহ্ দুলাল নামের ওই কথিত সাংবাদিকের বাড়ি জেলার সীতাকু- উপজেলায় অথচ মিরসরাই এলাকার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে তার সখ্যতার খাতিরে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। অলিউর রহমান, শহীদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাব শহীদ ও জসিম উদ্দিন থানার যেকোন শালিস বৈঠকে নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে কোন একটা পক্ষ নিয়ে শালিস বাণিজ্য করে বেড়ায়। গত ১২ মে থানার একটি বৈঠকে তারা একটি পক্ষ নিয়ে পুলিশের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়ালে থানার ওসি মজিবুর রহমান তাদের থানা থেকে বের করে দেয়।

এদিকে এসব কথিত সাংবাদিকের অপপ্রচারে দিশেহারা হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সংগঠন মিরসরাই উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদ সাংগঠনিক নির্বাহী সভা ডেকে এসকল ভূয়া সাংবাদিকদের কৃতকর্ম সম্পর্কে রেজুলেশন গ্রহণ করে তা চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, পুলিশের ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন।

উপজেলার মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মদ নিজামী বলেন, ‘এসব ভূয়া সাংবাদিকদের অবৈধ কাজকর্মের দরুন আমরা রীতিমত বিব্রত। তারা এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে নিয়মিত চাঁদাবাজী করছে। তাদের কাছে আমরা জনপ্রতিনিধিরাও যেন অসহায় হয়ে পড়েছি। এদের অপকর্মের বিষয়ে পেশাদার সাংবাদিকেরা দৃষ্টি রাখলে এতটুকু গড়াতো না। আমরা উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদ তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক রেজুলেশন গ্রহণ করেছি এবং তা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে প্রেরণ করেছি।’
এসব কথিত সাংবাদিক দ্বারা চাঁদাবাজীর শিকার একটি পরিবারের উদ্বৃতি দিয়ে মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য মাঈনুল আহসান রিমু অভিযোগ করেন, ‘আমার নিকটাত্মীয় নূর হোসেনের কাছ থেকে সাংবাদিক নামধারী অলিউর রহমান ও র‌্যাব শহিদ এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এসময় আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমাকেও তারা হুমকি ধমকি দেয়। পরে আমার ওই আত্মীয় থেকে ৮০ টাকা আদায় করে।

এদিকে এসব কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সাংগঠনিক রেজুলেশন গ্রহণ করেছে মিরসরাই প্রেস কাব। তারা এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

এই বিষয়ে মিরসরাই প্রেসকাবের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ‘এসব ভূয়া সাংবাদিক কখনো থানার সোর্স পরিচয়, কখনো সাংবাদিক পরিচয়ে শালিস বিচার পর্যন্ত করছে। আবার বিভিন্ন পক্ষ থেকে সংবাদ প্রচার করবে বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে যাতে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সময় থাকতে এসব কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জানান, বেশ কজন ভূয়া সাংবাদিক সম্পর্কে আমরা জেনেছি। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিব।

mAD