সোলেইমানির জানাজা পড়ালেন খামেনি, জনসমুদ্র তেহরান

সোলেইমানির জানাজা পড়ালেন খামেনি, জনসমুদ্র তেহরান

January 6, 2020 1461 By মিরসরাই খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
ইরানের রাজধানী তেহরানে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জেনারেল কাসেম সোলেইমানির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার ইরাকে ড্রোন হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করে তাকে।
আলজাজিরা জানায়, সোমবার তেহরান ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় সোলেইমানির জানাজা পড়ান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
এদিন প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ভোর থেকে নারী ও পুরুষেরা কালো পোশাকে আচ্ছাদিত হয়ে জানাজাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করে। শোকাহত মানুষদের মিছিল একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজা ও শোক মিছিলে দখল হয়ে যায় তেহরানের রাস্তা ও অলিগলি।
বিশাল এই জনসমাবেশের প্রতি সোলেইমানির মেয়ে জয়নব বলেন, তার বাবার মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ইসরায়েল একটি ‘কালো অধ্যায়ের’ মুখোমুখি হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে বলেন, ‘পাগল ট্রাম্প, আমার বাবার শাহাদাতের মধ্যে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করবেন না। মার্কিন সেনারা তাদের পরিবার নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুভয় নিয়ে দিন কাটাবে এখন থেকে।’
গত শুক্রবার ভোরে ইরাকে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন মেজর জেনারেল সোলেইমানি। তিনি ইরানি সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন।
ওই হামলায় সোলেইমানিসহ নিহত হন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি মিলিশিয়া কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়।
রবিবার সকালে আহভাজ শহরে সোলেইমানির মৃতদেহ পৌঁছায়। সেখানে তার প্রতি শোক জানাতে আসা মানুষের সমাবেশ সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোক মিছিলে পরিণত হয়। তারা সেখানে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস’ চেয়ে স্লোগান দেয়।
শনিবার ইরাকে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও লাখও মানুষ অংশ নেয়। বাগদাদে শোক মিছিলে অংশ নেয়া মানুষ ইরাকি এবং মিলিশিয়া বাহিনীর পতাকা বহন করে। সেখানেও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যু’ চেয়ে স্লোগান দেয় তারা।
মঙ্গলবার ইরানের পবিত্র শহর কওমে শেষ জানাজার মধ্যে দিয়ে নিজ শহর কেরমানে দাফন করা হবে সোলেইমানিকে।

mAD
mAD