স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ এর জন্মদিন পালিত

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ এর জন্মদিন পালিত

January 16, 2020 1523 By মিরসরাই খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক::
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র “মানুষের মন”এর পরিচালক, মিরসরাইয়ের কৃতি সন্তান মোস্তফা মেহমুদ এর ৮৩ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নে তাঁর নিজস্ব বাড়িতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় মিরসরাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দীপ জ্বেলে যাই এর সদস্যরা। এসময় তাঁর বড় ছেলে সালাহ্ উদ্দিন সেলিম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মোস্তফা মেহমুদ ১৯৩৬ সালের ১৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহন করেন। ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল নিজ বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রথমে মরহুমের কবর জেয়ারত করা হয়। জেয়ারতে দোয়া করেন হাফেজ মাহাদি হাসান। এরপর দীপ জ্বেলে যাই এর পক্ষ থেকে তাঁর সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সব শেষে দীপ জ্বেলে যাই এর সদস্যরা মোস্তফা মেহমুদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় দীপ জ্বেলে যাই এর সদস্য সজিব চৌধুরী, রিপন গোপ পিন্টু, সাদিয়া স্মৃতি, রিপা, নাহিদ, নোবেল, রুজেল, তুহিন, উজ্জল, তামিম, নজরুল ইসলাম, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মুহিবুল আরিফ ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক শারফুদ্দীন কাশ্মীর উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা ও রোজী কবির অভিনিত “মানুষের মন” স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এ দেশীয় চলচ্চিত্র হিসাবে স্বীকৃত। ৬০ এবং ৭০ দশকে তিনি জনপ্রিয় পরিচালক ছিলেন।
নায়িকা ববিতা (সংসার) ও নায়িকা নতুন (নতুন প্রভাত) তাঁর পরিচালিত ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এই দুই নায়িকা এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
দুই ভাই (রাজ্জাক, সুচন্দা-১৯৬৭ খৃঃ), সংসার (রাজ্জাক, সুচন্দা, ববিতা-১৯৬৭), মোমের আলো (সুজাতা, আনসার-১৯৬৮), মায়ার সংসার (সুজাতা, সরকার কবির-১৯৬৯), আদর্শ ছাপাখানা (সুজাতা, জলিল ও আবুল খায়ের-১৯৭০), নতুন প্রভাত (নতুন, শাকিল-১৯৭১), মানুষের মন (রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা, রোজী-১৯৭২), জীবন সংগীত (রাজ্জাক, সুচন্দা-১৯৭৩), অবাক পৃথিবী (রাজ্জাক, কবরী, শাবানা-১৯৭৪), মনিহার (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৫), জয়পরাজয় (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৬), মনের মানুষ (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৮), মধুমিতা (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৯),মাটির মানুষ (শাবানা, আলমগীর-১৯৮০) ও স্বামীর সোহাগ (কবরী, বুলবুল আহমেদ-১৯৮২) তাঁর পরিচালিত ছবি। এর মধ্যে দুই ভাই ও সংসার যৌথভাবে পরিচালিত চলচ্চিত্র।
১৯৫৭ সালের শেষের দিকে “মাসিক মৃদঙ্গ” নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু করেন তিনি। ছবি পরিচালনায় হাত দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এটি প্রকাশ ও সম্পাদনা করতেন। এটি মূলত চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক সংবাদ নির্ভর পত্রিকা ছিল।
চলচ্চিত্র পরিচালনা ছেড়ে দেয়ার পর থেকে তিনি মিরসরাইয়ের মিঠানালা তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি মাছ ও গরুর খামার গড়ে তুলেন। পাশাপাশি শাক সবজি চাষ করতেন। মাঝে মাঝে প্রবাসে ছেলেদের কাছে গেলেও ফিরে আসতেন গ্রামে। আমৃত্যু তিনি সেখানেই ছিলেন।