ত্যাগে, আনন্দে ঈদুল আজহা পালিত

ত্যাগে, আনন্দে ঈদুল আজহা পালিত

August 22, 2018 579 By মিরসরাই খবর

মিরসরাইখবর ডেস্ক::

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানেই ঈদের জামাত শেষে চলে পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা। বাঙালি সমাজে কোরবানির ঈদ নামেও পরিচিত মুসলমানদের এই অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। যুগ যুগ ধরে এই ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর করে আসছে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত হয় সকাল ৮টায়। জামাতে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এছাড়া, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জামাতে অংশ নেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের নামাজের দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, চট্টগ্রামে সকাল পৌনে ৮টায় নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারপ্রাপ্ত সিটি মেয়র হাসনা মোহাম্মদ হাসনী, সংসদ সদস্যসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় পৌনে ৯টায়। এছাড়া নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ১৬৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদুল আজহা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হজরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা।

তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হজরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামী শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব।

ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে সুরা কাউসারে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।’ রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার দিন কোরবানির চেয়ে আর কোনো কাজ আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয় নয়।’ গরু, মহিষ, উট, ভেড়া. ছাগল, দুম্বাসহ যে কোনো হালাল পশু দিয়ে কোরবানি দেয়া যায়।

ঈদের নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করবেন সামর্থ্যবান মুসলমানরা। ঈদুল আজহার সঙ্গে পবিত্র হজের সম্পর্ক রয়েছে। সোমবার মক্কার অদূরে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায় হজ পালন করেছেন।

স্থানীয় হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী গতকাল সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। সকালে মুজদালিফা থেকে ফিরে হাজীরা মিনায় অবস্থান করে পশু কোরবানিসহ হজের অন্য কার্যাদি সম্পাদন করেন।