মহিলা মেম্বার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের যোগসাজসে দুর্নীতি

মহিলা মেম্বার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের যোগসাজসে দুর্নীতি

February 11, 2020 4488 By মিরসরাই খবর

শারফুদ্দীন কাশ্মীর::
মিরসরাইয়ে এক মহিলা মেম্বারের (ইউপি সদস্য) বিরুদ্ধে গভীর নলকূপের কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের যোগসাজসে ঘটনাটি ঘটেছে মিরসরাই উপজেলার ১২ নম্বর খইয়াছরা ইউনিয়ন পরিষদে। ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জরিনা বেগমের বিরুদ্ধে মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তার এলাকার জনসাধারণ। অবশ্য জরিনা বেগম বলেন, তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের জন্য টাকাগুলো নিয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওই মহিলা মেম্বার (ইউপি সদস্য) ডিপ টিউবয়েলের (গভীর নলকূপ) কথা বলে টাকা সংগ্রহ করলেও বসানো হয়েছে রিং টিউবয়েল। ১২টি টিউবয়েলের বেশির ভাগের পানিই খাবার অযোগ্য। লিখিত অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন তাঁর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে।
সরেজমিনে গেলে উত্তর আমবাড়ীয়া গ্রামের মকসুদ আহমদের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, বেশ কয়েক মাস আগে আমাদের এলাকার জরিনা মেম্বার জানান, এই এলাকার জন্য বেশ কিছু গভীর নলকূপ বরাদ্দ হয়েছে। গভীর নলকূপ বসানো হলে আর্সেনিক মুক্ত, আয়রনসহ দুর্গন্ধযুক্ত ও ঘোলাটে পানির বদলে সুপেয় পানি পাওয়া যাবে। সুপয়ে পানি পাওয়ার আশায় এবং জরিনা মেম্বারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে তার হাতে প্রত্যেক গভীর নলকূপের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে তুলে দেই। নলকূপ বসানোর সময় মিস্ত্রীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে বলেন জরিনা বেগম। সুপেয় পানির আশায় আমরা কষ্ট হলেও মেম্বারের প্রস্তাব মেনে নিই। মিস্ত্রীদের থাকা খাওয়া বাবদ আরো ৫/৬ হাজার টাকা করে খরচ হয় প্রত্যেকের। পুরোপুরি কাজ শেষ হলে আমরা বুঝতে পারি জরিনা বেগমের কথার সাথে নলকূপের মিল নেই। আমরা জানতে পারি ডিপ টিউবয়েল নয় এখানে বসানো হয়েছে রিং টিউবয়েল। সরকারি ভাবে যার খরচ হওয়ার কথা সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা।
প্রায় একই রকম অভিযোগ করেন উত্তর আমবাড়ীয়া গ্রামের কালাম সর্দারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা বেগম। তিনি এই প্রতিনিধিকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে দেখান, সুপেয় পানি না পাওয়ায় তারা তাদের আগের নলকূপটি (রান্না ঘরের সামনে) উপরের অংশ খুলে রেখেছেন। নতুন বসানো রিং টিউবয়েলটি দেখিয়ে তিনি বলেন, এর পানি খাওয়ার অযোগ্য। তিনিও টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এ প্রসঙ্গে খইয়াছরা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জরিনা বেগম মুঠোফোনে মিরসরাইখবর’কে বলেন, অফিসের খরচের জন্য টাকা নিয়েছেন। সবার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেননি দাবি করে তিনি বলেন, ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। টাকা গুলো অফিসে কাকে দিয়েছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের আফছার উদ্দিনকে (মেকানিক) দিয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলার জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের মেকানিক আফছার উদ্দিন টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, টাকাগুলো নিয়ে অফিসের বড় কর্তাকে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক নলকূপের জন্য সাড়ে ৫হাজার টাকা করে নিয়েছেন। ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এত টাকা জরিনা মেম্বার আমাকে দেয়নি। সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা সরকারি ফি, কেন সাড়ে ৫ হাজার নিলেন এর উত্তরে তিনি বলেন অফিস খরচের জন্য বাড়তি টাকা নেয়া হয়েছে।
মিরসরাইয়ের উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কারন ওই বরাদ্দ তিনি আসার আগে হয়েছিলো।
মিরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন মিরসরাইখবর’কে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য আমার অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি এখনও তদন্ত রিপোর্ট দেননি।