হজ মৌসুম যে কাজের সেরা সুযোগ

হজ মৌসুম যে কাজের সেরা সুযোগ

July 27, 2018 0 By মিরসরাই খবর

মিরসরাইখবর ডেস্ক::

হজ বিনয় ও তাকওয়ার মৌসুম। আল্লাহর কাছে লুটিয়ে পড়া এবং বেশি বেশি সওয়াব আহরণের সময়। সুতরাং এ সময় কী করে অধিক নেকি কামাই করা যায় তা জানাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই মৌসুমে বেশি বেশি ইবাদত ও অধিক পরিামাণে পুণ্য কামাইয়ে সহায়ক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে :

আল্লাহ তায়ালার পরিচয় লাভ করা। তাঁর মাহাত্ম্য, প্রিয় বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশাল দান এবং শত্রুদেরকে তাঁর কঠিন পাকড়াও নিয়ে ভাবা। কেননা যে তার মাওলাকে চিনেছে সেই তাঁকে ভালোবেসেছে, তাঁকে লজ্জা করেছে, তাঁকে ভয় করেছে এবং তাঁর কাছে থাকা নেয়ামতের প্রত্যাশা করেছে। সে পারেনি তাঁর অবাধ্য হতে এবং গোনাহে লিপ্ত হতে।
– অন্তরকে তার দুর্বলতা, অজ্ঞতা, অপরিণামদর্শিতা, অবাধ্যতা, হতাশা, ভোগের প্রতি ঝোঁক ও আগ্রহ এবং নম্রতা ও প্রশান্তি-প্রিয়তার বৈশিষ্ট্যসহ বুঝতে পারা। মানুষ যখন আপন সত্তাকে চিনতে পারে, নিজের সবলতা-দুর্বলতা ও লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং যে মহান দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা বুঝতে পারে, তখন সে নফসকে এমন এক দৃঢ় নিয়মে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়, যা তাকে আনুগত্যে, আল্লাহমুখী হতে, প্রবৃত্তির বিরুদ্ধাচারণ এবং মন্দ কাজে শয়তান ও নফসে আম্মারার বিরোধিতার প্রতি আহ্বান করে। তখন তার প্রধান কাজই হয় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ে দেওয়া এবং আখেরাতে কল্যাণ বয়ে আনে এমন আমলে ব্যস্ত থাকা।
– রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুকরণ করা। কারণ, সমগ্র উম্মতের মধ্যে তিনিই আল্লাহ তায়ালাকে সবচেয়ে বেশি চিনেছেন এবং সর্বাধিক ভয় করেছেন। তাঁর আদর্শই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। সুতরাং যে এ মহান মৌসুমে কৃতকার্য এবং অধিক নেকি কামাই করতে ইচ্ছুক তার কর্তব্য রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুরভিত জীবনী পাঠ করা। তাঁর আদর্শ গ্রহণে সচেষ্ট হওয়া। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ ও তাঁর পথ অবলম্বন করা।
– দুনিয়ার তুচ্ছতা ও আখেরাতের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা। কারণ, যে ইহকালের বাস্তবতা, দুনিয়ার স্বল্পতা, সীমাবদ্ধতা ও নশ্বরতা অনুধাবন করতে পারে, সে দুনিয়াকে তুচ্ছ ও মূল্যহীন মনে করে। এর প্রতি হয়ে যায় নিরাসক্ত। আর যে আখেরাতের বাস্তবতা, আখেরাতের নেয়ামতের বিশালতা, এর শাস্তির ভয়াবহতা ও তার স্থায়িত্ব সম্পর্কে জানতে পারে এবং দুনিয়ার জীবনের তুলনায় আখেরাতের মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে, সে আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে। আখেরাতের নেয়ামতের প্রতি আগ্রহী হয় এবং কাকুতি-মিনতি করে সেসব নেয়ামত প্রার্থনা করে। তখন তার জন্য সহজ হয়ে যায় এ পথে কাজ করা এ পথের সব বাধা দূর করা।
– আল্লাহ তায়ালার কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর কাছেই সঠিক পথ কামনা করা। কারণ, রাজত্ব তাঁর। ক্ষমতাও একমাত্র তাঁরই। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া মানুষ কারও কল্যাণ-অকল্যাণ কিছুই করতে পারে না। তার এ পরিশ্রমের প্রথম ফল হবে : ইসলামের দৃঢ়তা এবং ইয়াকিনের বিশুদ্ধতা। কেননা নফস যখন এ স্তরে উন্নীত হবে, তখন তা নূর-দীপ্তি ও শান্তি-প্রশান্তিতে ভরে যাবে। আল্লাহ তায়ালার প্রতিশ্রুতির প্রতি তার হৃদয় হবে আস্থাশীল। এটি তাকে আগ্রহী করে তুলবে অলসতা ত্যাগ, দুনিয়াকে উপেক্ষা এবং আখেরাতের কাজে।
– নফসকে নিয়ন্ত্রণে সাধনা করা। এই নফসকে ভোগ সামগ্রী ও পার্থিব চাকচিক্যে আসক্ত হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রবৃত্তির দাসত্ব নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নফসের সাফল্য অর্জনের কোনো পথ নেই। শুধু প্রয়োজন পর্যন্তই নফসকে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। যাতে কেউ প্রবৃত্তির সাগরে ডুবে না যায়। প্রবৃত্তির অন্ধ অনুকরণ তাকে অপদস্থ, অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে ছাড়ে।
– আনুগত্যের সুফল ও অবাধ্যতার কুফল নিয়ে চিন্তা করা। প্রকৃতিগতভাবে নফস সওয়াব ও সওয়াবের কাজে আগ্রহী এবং আখেরাতের শাস্তি ও আজাবের ভয়ে ভীত। তাই পাপ-পুণ্যের চিন্তাই আনুগত্য ও আখেরাতের আমলে সচেষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। এটিই পাপে জড়িয়ে পড়া এবং ভোগসামগ্রীতে ডুবে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় সতর্ককারী হয়।
– পার্থিব আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা। মৃত্যুর ধ্যান-খেয়াল করা। মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা ও এর ভয়াবহতা কল্পনা করা। হায়াতকে সংক্ষিপ্ত এবং মরণকে কাছে জানা। যাতে ঢিলেমি থেকে বাঁচতে পারে, হিসাবকে সাহসের সঙ্গে স্বাগত জানাতে পারে এবং সুযোগ ও সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারে।
– শেষ পরিণতি ও আখেরাতের ফলাফল নিয়ে চিন্তা করা। কেননা এটিই নফসকে বিরত রাখা, সাহস সঞ্চয়, পাথেয় সংগ্রহ ও মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়ার মাধ্যম। কোনো ব্যক্তি যখন পরিণতির কথা না ভেবে তার জীবন পরিচালনা করে, সে উদাসীনতার রাজ্যে বাস করতে থাকে, যার পরিণতি হয় আক্ষেপ ও অনুতাপ।
– নৈকট্য লাভের উপায় ও নেকি অর্জনের মাধ্যম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। যেমন : আনুগত্যের প্রতি ধাবিত হওয়া। পরিমাণে অল্প হলেও নেককাজে অবিচল থাকা। উত্তমকে গ্রহণ করা এবং বিভিন্ন ধরনের আমল করা। মুবাহ কাজের ক্ষেত্রেও সওয়াব লাভের চেষ্টা করা। নেক কাজের নিয়ত করা, যদিও সেটা তৎক্ষণাৎ সম্পাদন না করতে পারে। একটি কাজের মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের চেয়ে অনেক কাজ করার ইচ্ছা করা।
– বরকতময় এ মৌসুমে আবেদ ও দুনিয়া বিরাগীদের জীবন অধ্যয়ন করা। তাদের জীবনাচরণ থেকে শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করা এবং তাদের পথ অবলম্বন করা। কারণ, নেককারদের আদর্শ হিসেবে নেওয়াও একটি নেক কাজ এবং সফলতার দরজা।